তাজা হয়ে উঠেছে নাভিদের কাছে। স্মৃতি বড় বেদনাদায়ক, যেন কেউ ধারালো ছুড়ি দিয়ে হৃদয় ক্ষতবিক্ষত করে ফেলছে। হৃদয় রক্তাক্ত, কিন্তু বাহির থেকে তা দেখা যায়না। চোখে অশ্রু টলমল করছে, কিন্তু এক ফোটা অশ্রু গড়িয়ে পরার সাহস করেনি তার আগেই বাথরুমে গিয়ে নাভিদ নিজের মুখ ধুয়ে ফেলে।
বাথরুম থেকে বের হয়ে দেখে টেবিলের উপর রাখা মোবাইল বাইব্রেশন এ কাপছে। মোবাইলটা হাতে নিয়ে দেখে মবিনের নাম্বার। নাভিদ কল রিসিভ করে।
মোবিন= হ্যালো নাভিদ ভাই, তারাতারি ক্যাম্পাসে আসেন
নাভিদ= কেন? কি হইছে?
মোবিন= আইরিনের সাথে প্রবলেম হইছে।
নাভিদ= আমি কি ব্রোকার? তোদের প্রবলেম সল্ভ করবো।
মোবিন= ভাই প্লিজ।
নাভিদ= আমি পারবোনা, আমার কাজ আছে।
মোবিন= ভাই প্লিজ একবার আসেন।
নাভিদ= ঠিকাছে আসতাছি।
নাভিদ চমকে উঠে, বুঝতে পারে রাধা সব কিছু জানতে পেরেছে।রাধার চোখের পানি টপটপ করে নাভিদের হাতে পরে। রাধা মাথা উচু করে নাভিদের দিকে তাকায়, রাধার চোখ রক্তের মত লাল বর্ণ ধারণ করে। রাধা চোখ মুছে আবার বলতে শুরু করে= তোমার জীবনে প্রেম এসেছে একবার আর আমার জীবনে প্রেম এসেছে অনেকবার কিন্তু আমার প্রত্যেকটা প্রেম কাহিনীতে নায়ক একজনই, তুমি, সুধু তুমিই। তুমি কেন আমার সাথে বারবার এমন কর।
নাভিদ= রাধা, তোমার আর আমার ভালোবাসার শুরুটা হয়েছিল বাল্যকালের দুরন্তপনায়, সময়টা ছিল খুবই রঙিন, কিন্তু সেই রঙিন সময় অন্ধকারে পরিনত হতে খুব বেশি সময় লাগেনি। ছোট বেলায় যখন তুমি আমার দিকে তাকিয়ে হাসতে, তোমার চোখে থাকতো আমার জন্য ভালোলাগা কিন্তু আমি বুঝতাম না বরঞ্চ আমার রাগ হতো আমি তোমাকে কাদিয়ে দিতাম, তুমি তখন আমার দিকে তাকিয়ে কাঁদতে, আমি হাসতাম, তখনো তোমার চোখে থাকতো আমার জন্য ভাললাগা।ভালোলাগা ভালোবাসায় কখন পরিনত হয় বুঝতে পারিনি। বাল্যকালে তুমি আমার জন্য অনেক কষ্ট পেয়েছ, তোমার কোমল হৃদয় বারবার আমার জন্য আঘাত প্রাপ্ত হয়েছে। এখন তোমার এই অবস্থার জন্যও আমিই দাই। আমি তোমার যোগ্য নই, আমি তোমাকে ডিসার্ভ করিনা। আমার কাছ থেকে দূরে থাকাই তোমার জন্য ভালো।
রাধা= আমার লাইফের ব্যাপারে তুমি একা ডিসিশন নিতে পারনা। আমাকে দুরে সরিয়ে রাখার কোন রাইট তোমার নেই।
নাভিদ= রাধা তুমি বুঝতেছনা।
রাধা= আমার এতো কিছু বুঝা দরকার নাই।আমি তোমাকে ভালোবাসি, তুমি আমাকে ভালবাসো। এতোটুকুই যথেষ্ট। প্লিজ নাভিদ আমাকে ছেড়ে যেওনা।
নাভিদ কিছুক্ষন চুপ থাকে তারপর বলে উঠে= ঠিকাছে, নাড়ুগুলা দাও, প্রচন্ড ক্ষুধা লাগছে।
কথাটা শুনে রাধার গোলাপি ঠোট ডিঙ্গি নৌকার মত বাকা হয়ে যায়। চোখে মুখে আনন্দের উচ্ছাস। যেন ফুল বাগানের সবগুলো ফুল একসাথে হেসে উঠে।খুশিতে জড়িয়ে ধরে নাভিদকে।
নাভিদ= এই রাধা কি করছ, কলেজ ক্যাম্পাস, সবাই দেখছে।
রাধা= তাহলে এমন কোথাও চল, যেখানে কেউ দেখবেনা।
নাভিদ= সেই আগের মতই দুষ্ট রয়েগেছ, একটুও চেঞ্জ হওনাই তুমি।
রাধা= তোমার অপেক্ষায় সারাজীবন আমি একইরকম ভাবে থাকতে পারি।
নাভিদ= তুমি আমাকে কিভাবে এতো ভালবাসতে পারো।
রাধা= যেভাবে তুমি আমাকে তেহারি খায়িয়েছ, সেইভাবে। (কথা টা বলেই রাধা নাভিদের মুখে একটা নাড়ু গুজে দেয়।)
নাভিদ= আচ্ছা চল, মোবিন আর আইরিনের মধ্যে কোন একটা প্রবলেম হইছে। সেটা সল্ভ করার জন্য আমাকে ডাকছে।
রাধা= আরে কোন প্রবেলম ই হয়নাই, তোমাকে মিথ্যা বলে কলেজে আনছে।
নাভিদ= তার মানে সব ওদের প্ল্যান।
রাধা= ঐ সব বাদ দাও। আজকে তোমার সাথে অনেক কথা বলব, অনেক ঘুরবো।
নাভিদ= ঠিকাছে, চল তাহলে।