#আপুর_ছাত্রী
#অভ্রনীল
#৫ম_পর্ব
ঈশার যাওয়ার পরেই আমি আপু আমার দিকে আঙুল তুলে...
-- অভ্র যেটা তুই করছিস সেটা মোটেও ঠিক নয়। (আপু)
আমি রাগকে কন্ট্রোল করে.....
-- আচ্ছা এখন তুই যা।
এবার আপু চলে গেলো।
যাক গেছে ভালোই হয়েছে কিন্তু মেয়েটা যে এভাবে কষ্ট পাচ্ছে সেটা তো আমার জন্য, এটা কি করা আমার ঠিক হচ্ছে।
ওসব কথা ভাবতে ভাবতে কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছি নিজেও জানিনা।
বিকালে ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে শীতলের দোকানে গেলাম সেখানেও ভালো লাগছে না একদম। রোমান সিয়াম সবাই পাশে আছে আজ কিন্তু কিছু একটার কম উপস্থিতি ফিল করছি। আমাকে মনমরা দেখে....
-- দোস্ত কি হয়ছে তোর? (রোমান)
-- কিছু না রে দোস্ত। (আমি)
-- আরে মাম্মা বল না সমস্যা নাই। (সিয়াম)
-- রিয়েলি বলছি কিছু না।
রোমান একটু রেগে গিয়ে...
-- ওহ বুঝলাম আমার এখন তোর কেউ না তাই তো।
শালাদের কোনোকিছু কথা না যদি খুলে বলি তাহলে তাদের এই কথাটা সবসময় মুখে লেগেই থাকে।
-- উফ আল্লাহ, বলছি তাহলে শোন...
-- ওকে বল।
এবার আমি পুরো ঘটনাটা বললাম তারা এতোক্ষন মন দিয়ে শুনলো যখনই PUBG এর কথা এলো তখনই ওরা আমায় বুকে জড়িয়ে নিয়ে...
-- ভাই তুমি গেমের মান সম্মান বাঁচিয়েছো। (সিয়াম)
-- অভ্র তুই যেটা করছিস সেটা সত্যিই ঠিক না ওই মেয়েটা সত্যিই তোকে রিয়েল লাভ করে। (রোমান)
-- কি জানি?
-- আচ্ছা বাদ দে., তোর একটা যাবে আর একটা আসবে তো।
-- হ্যাঁ রে শালা তোর মতো আর কি 😱 একটাই হয়না সবসময় আরো দুটা তিনটা নিয়ে ঘুরতে হবে।
-- এই দেখ অভ্র যা তা বকবি না।
-- ওহ তাই তো, তা কাল কার সাথে ফোনে কথা বলছিলি শুনি।
-- ককককইইইইই
-- কইইই মানে, কাল বিজি বলছিলো কেন?
-- আরে ওই আর কি? একটা ফ্রেন্ড।
সিয়াম রোমানের মাথায় একটা থাপ্পড় মেরে...
-- হ্যাঁ কেমন ফ্রেন্ড সেটা আমরা খুব ভালোভাবে জানি।
সবাই হাসাহাসি করছে কিন্তু আমি হাসতে পারছিনা। মন মানতে চাইছে না আর, মনে হচ্ছে ঈশাকেই আমার লাইফে সব থেকে বেশি গুরুত্ব।
আমি ওদের বাই বলে বের হলাম ঈশার সাথে মিট করার জন্য । আমি ঈশাদের বাসার সামনে গিয়ে ঈশাকে কল দিলাম....
-- হ্যালো। (আমি)
-- হুম কি জন্য ফোন দিয়েছো? (ঈশা)
-- ফোন দেওয়ার জন্য বুঝি কারন লাগে?
-- সেটা লাগে না তবে তোমার তো লাগে।
-- তুমি বাইরে আসো।
-- না যেতে পারবো না।
-- ওকে, তাহলে আমি আসি।
-- ওই ওই ওই আমি যাচ্ছি ওয়েট।
হাহাহা, মেয়েটা সত্যিই পাগল।
বাসার সামনে এসে আমার সামনে দাঁড়ালো। মেয়েটার মায়াবী মুখটা পুরাই কেমন বিষন্নতার ছাপে ভরে গেছে। চোখ গুলো পুরো লাল হয়ে গেছে।
-- বাসায় কেউ আছে নাকি? (আমি)
-- জ্বি না কেউ নাই। (ঈশা)
-- কই গেছে?
-- এই একটু আগে ভাইয়া বাজারে গেলো আর আম্মু আব্বু তো রিলেটিভ এর বাসায়।
-- তো চলো রুমে...
এই কথাটা শুনে ঈশা কিছুটা চমকে গেলো।
-- কি হলো চলো? (আমি)
-- না মানে রুমে কেন? (ঈশা)
-- কাজ আছে।
-- নাহ আমি পারবো না।
মেয়েটার মুখে এখন ভয়ের ছাপ লক্ষ করছি।
-- কথা বার্তা কি এইই বাইরে দাঁড়িয়েই বলবো নাকি।
এটা শুনতেই ঈশা মুচকি হেসে....
-- আচ্ছা চলো।
রুমে গিয়ে আমি বসে আছি ঈশার দিকে তাকিয়ে, ওকে নিয়ে আমার মনের মধ্যে থাকা জমা কথাগুলো আমি বলতে পারছিনা। আর ঈশাও মাথা নিচু করে আমার সামনে বসে আছে। দুজন দুজনের দিকে তাকাচ্ছি।
আমি এবার ঈশার পাশে বসে পকেট থেকে মোবাইলটা বের করে ঘাঁটতেই থাকলাম, কিছু বলতে পারছিনা। বুকের বাম পাশ চিনচিন করছে, যদি ঈশা না বলে দেয় তাহলে এই ধাক্কা আমি সহ্য করবো কিভাবে?
ঈশা আমার দিকে তাকিয়ে....
-- অভ্র কিছু বলবা....
-- হ্যাঁ হ্যাঁ হ্যাঁ, বলছি মোবাইলের চার্জার হবে?
দূর আমি কি যাতা বলছি ভয়ে।
-- জ্বি। ওয়েট আনছি।
ঈশা চলে যেতেই নিজেই নিজের মাথায় ঠুকে অভ্র কি যাতা তুই বলছিস।
ঈশা আমাকে চার্জার এগিয়ে দিলো আমি ওর সামনে দাঁড়িয়ে হাত বাড়াতেই আমকে চার্জার এগিয়ে দিলো।
আমি চারিদিকে তাকিয়ে দেখলাম মেঘ আস্তে আস্তে কালো হয়ে আসছে।
শালা এটা PUBG খেলা মাথা শুধু চার্জার খুঁজতেই জানে। প্রেমের কথা বলতে জানে না। 🙈🙈
ফোন চার্জে বসিয়ে আমি ঈশার পাশে বসলাম।
হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হয়ে গেলো। আর সাথে ব্জ্রঘাত। ঈশা কানে হাত দিয়ে ভয়ে ভয়ে বসে আছে।
হঠাৎ একটা জোর বাজ পড়তেই ঈশা চিৎকার করে....
-- ও মা গো, বাঁচাও।
এটা বলেই আমাকে জোর করে চেপে ধরলো, ইশা থরথর করে কাঁপছে ভয়ে।
-- আমি আছি কিছু হবে না। ছাড়ো আমায়। (আমি)
-- না না ভয় করছে প্লিজ ছাড়ো না আমায়। (ঈশা)
এটা বলেই ঈশা আমার দিকে তাকিয়ে লজ্জা পেয়ে গেলো আবার আমার বুকেতে মাথা লুকিয়ে নিলো।
আরো বেশি করে বাজ পড়ছে এখন আর তত ঈশা ভয়ে আমায় আরো চেপে ধরছে। আমিও ঈশাকে খুব জোরে চেপে ধরেছি।
আমি ঈশাকে আবার ছাড়াতে চাইলে...
-- বলছি না আমাকে ছাড়বা না। (ঈশা)
আমি হাল্কা হেসে...
-- যদি সারাজীবনও এভাবে ধরে রাখি তবুও ছাড়তে বলবে না বুঝি।
এটা শুনতেই ঈশা আমাকে আরো জোরে চেপে ধরে আমার বুকে আরো মাথাটা গুঁজে গিয়ে....
-- হুম বলবো না।
ঈশা এবার আমার মুখের দিকে তাকাতেই ওর মুখে একটা বিদ্যুৎ চমকানোর আলো পড়তেই আমি আমার হাত ওর মুখে ঢেকে দিতেই ঈশা হেসে...
-- ভয় করো না, কিছু হবে না আমার। (ঈশা)
সত্যিই আমি ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। একটা মানুষকে হারানোর ভয় তো তখনই হয় যখন মন তাকে পুরোপুরি মেনে নেয়।
-- কেন?
-- তুমি আজ পাশে আছো তাই।
-- তাই।
-- হুম।
-- ঈশা আমি তোমায় ভালোবাসি।
এটা শুনেই মেয়েটা পুরাউ আত্মহারা হয়ে গিয়ে খুশিতে...
-- সত্যিইইইইইইই
-- হুম।
-- আমিও ভালোবাসি। 😍
আবার একটা বাজ পড়তেই ঈশা আমায় চেপে ধরতেই হায় লাগ গেয়ে ৪৪০ ভোল্ট। আমি ঈশার কোমড়ে হাত দিতেই ঈশা কিছুটা ঘাবড়ে গিয়ে....
-- অভ্র ভয় করছে এখন খুব। (ঈশা)
-- কেন? (আমি)
-- উম জানি না তো।
-- বুঝলাম বাজ পড়ছে বলে।
-- উহু ওই জন্য না।
-- তবে?
হিহিহি ঈশার কোমড়ে হাত দিয়েছি তার জন্য বলছে আমি সিউর..
-- জানিনা।
আমি ঈশাকে কোলে তুলে এবার ওর বিছানায় তুলতেই ইলেকট্রিক চলে গেলো।
পুরো বাসা এখন অন্ধকার। আমি আমায় ছাড়িয়ে...
-- ওয়েট এমারজেন্সি আনছি।
আমি মুচকি হেসে...
-- ধুর পাগলি কাজ তো ফ্লাসলাইটেও হয়ে যাবে। 🙈🙈🙈
ঈশা কিছু বুঝতে না পেরে...
-- মানে?
-- বুঝতে হবে না কাছে আসো তো 😍😍😍
আমি এটা বলেই আমি ওকে বিছানায় ফেলে আমি ওর উপর চেপে গেলাম।
অন্ধাকারে কিছুই দেখতে পাচ্ছিনা। তবুও তাই আমি এখন যা খুশি দুষ্টামি করতে পারি 🙈🙈😁😁
আমি আস্তে আস্তে আমার বাম হাতটা ঈশার পেটের উপর রাখতেই ঈশা লজ্জা পেয়ে মনে হয় আমার হাত চেপে ধরে...
-- এই ফাজিল ছাড়ো?
-- না ছাড়বো না....
-- উম ছাড়ো না, কাতুকুতু লাগে।
-- ওকে, তাহলে আর একটু নীভে হাত নিয়ে যাই। 😁🙈
ঈশা আরো লজ্জা পেয়ে....
-- কুত্তা বিলাই হারামী, আজ মারবো কিন্তু তোমায়।
-- উম মারা ওতো সহজ আর কি?
-- দেখবা।
এটা বলেই উলটে ঈশা আমার উপর চেপে আমার শার্টের বোতাম খুলতে লাগলো...
-- এই ইজ্জত নিবা নাকি 😱(আমি)
-- হুম নিবো তো। (ঈশা)
-- আমি তো শুনেছি শুধু ছেলেরা ইজ্জত নিতে পারে...
-- কেন মেয়েরা পারে না বুঝি।
-- কি জানি তবে আমি ইজ্জত হানি করতে পারবো না আমার ইজ্জত অনেক দাম কিন্তু 😎
ঈশা আমার দুটো হাত চেপে ধরে আমার বুকে মাথা রেখে....
-- এই কুত্তা এই জায়গাটা আমার নামে আজ থেকে রেজিস্ট্রি করে রাখলাম অন্য কেউ পেলে কিন্তু খবর আছে।
-- তাই।
-- জ্বি আর হ্যাঁ অন্য মেয়ের দিকে তাকানো তো দূরের কথা নামও যদি আনিস তোকে মেরে ফেলবো।
-- এই তুই তোকারি কেন?
-- যা খুশি করবো।
এহহহ আইছে যা খুশি করার, দাঁড়া দেখাচ্ছি মজা। 😎😎
আমি ঈশাকে আমার নীচে ফেলে আমি ওর পেটে হাত দিয়ে...
-- এই জায়গাটা আজ থেকে রেজিস্ট্রি করে রাখলাম এই জায়গাটাতেই আমাদের দুজনের ফসল উৎপাদিত হবে। 😁😁🙈🙈🙈
-- কুত্তা 😡😡 তোমার মুখে বুঝি কিছুই আটকায় না।
-- উহু না। এই চলো না আজ একটু রোমান্স করি...
-- উম পিচ্চি পণ্ডিত আবার রোমান্টিক হবে আজ
-- হুম তো সমস্যা কি?
-- জ্বি জনাব সমস্যা আছে?
-- কি সমস্যা?
-- যদি কিছু হয়ে যায়..
-- কি হবে??
-- জানিনা। (ঈশা হেসে)
-- কেন জানো না...
আমি এবার ঈশাকে একটা কিস করলাম, ঈশা আমাকে জাপটে ধরে নিলো যেন আমায় ওর বুকের সাথে আমায় পিষে মারতে চায়।
আমি খালি গায়ে আছি ঈশা ওর নখ দিয়ে আমাকে খামচে ধরেছে আর মাঝে মাঝে হেসে বলছে...
-- কুত্তা যদি ছেড়ে যাও না তোমার খবর আছে।
আমিও মজা করে...
-- বললাম জমিতে চাষ করতে দাও তাহলেই যাবো না 😁😁🙈🙈😍😍
ঈশা আবারও আমার বুকে কিল ঘুশি মারতে লাগলো।
বাইরে এখনো ঝমঝম বৃষ্টি পড়ছে, ঈশা কেমন আস্তে আস্তে গরম হয়ে আসছে। আমায় আরো জোরে চেপে ধরেছে। ওর শরীর থেকে এখন যেন কেমন আলাদা কেমন ফিলিংস আসছে। আমার পায়ের উপর ওর পা ঘঁষাঘষি করছে। 😍😍😍😍😍😍
#চলবে....
পরবর্তী পর্বের জন্য অপেক্ষা করুন।