গল্পঃ মামাতো বোনের সাথে বিয়ে
পর্বঃ১৯
সকাল হতেই বাসায় আনন্দের আমেজ বিরাজ
করতে লাগলো।সবাই যার যার মতো কাজ
নিয়ে ব্যস্ত।জান্নাত আরুহিকে প্রস্তুত করার জন্য
কাজ করছে।অবন্তী রুবেলের কাজিনদের সাথে
মেতে উঠেছে। সবাই যার যার মতো আনন্দ করছে
শুধু মাত্র আমিই নাদান পোলার মতো বসে আছি।
কয়েকবার কাজে হাত দিতে গিয়েও পারিনি।
একবার রুবেলের আম্মু আবার কখনো তার
আব্বু বারণ করেছে।চুপচাপ বসে আছি হঠাৎ
কারো ডাকে ঘোড় কাটলো।
মেয়েঃহাই আমি জেরি
আমিঃআমি নিলয়
জেরিঃআপনাকে ঠিক চিনলাম না
আমিঃআমি রুবেলের অফিসের কলিগ
জেরিঃওহ,আর আমি ওর বড় ফুফুর মেয়ে
আমিঃওহ
জেরিঃএখানে বসে কিছু ভাবছেন নাকি
আমিঃহুম
জেরিঃকি ভাবছেন
আমি;বউয়ের কথা
জেরিঃবউ নাকি গার্লফ্রেন্ড
আমিঃবউয়ের
জেরিঃআপনি বিয়া করছেন
আমিঃকেনো আমাকে দেখে কি মনে হয়😀
জেরিঃদেখে মনে হচ্ছে অবিবাহিত
আমিঃবাট আমি বিবাহিত
জেরিঃসে যায় হোক,বন্ধু হতে পারি?
আমিঃপারমিশন নিতে হবে
জেরিঃকার থেকে
আমিঃআমার বউয়ের থেকে
জেরিঃবউকে এতো ভয় পান?
আমিঃভয় না ভালোবাসি
তারপর আরো কিছু সময় মেয়েটার সাথে কথা
বলতে লাগলাম।অনেক বেশি কথা বলে।অনিচ্ছা
সত্ত্বেও কথা বলতে হচ্ছে।
দুজন কথা বলছি হঠাৎ রুবেল আসলো....
রুবেলঃজেরি তুই এখানে কেনো
জেরিঃতোর কলিগের সাথে কথা বলি
রুবেলঃনিলয় আমার কলিগ না।অফিসের স্যার
জেরিঃকিন্তু উনি তো বলল কলিগ
রুবেলঃমিথ্যা বলছে
জেরিঃওই আপনি আমাকে মিথ্যা বললেন কেনো
আমিঃআমার কাছে যেটা সত্যি সেটা বলছি।আর
অফিসের সবাইকে আমি বন্ধু মনে করি।কিন্তু
তারা যদি স্যার ভাবে আমার কিছু করার নেই
জেরিঃঅনেক সুন্দর করে তো কথা বলতে পারেন
আমিঃবউ শিখিয়ে দিয়েছে
জেরিঃসব কিছু কি বউই শিখিয়ে দেয়
আমিঃসব না।তবে কিছু কিছু জিনিষ যেগুলো
আমার মিষ্টি বউটা শিখিয়ে দেয়
জেরিঃআপনার বউটা কোথায়?
রুবেলঃআরুহির রুমে আছে।তুই যা
জেরিঃহুম।
জেরি চলে যাওয়ার পর রুবেল বলল....
রুবেলঃতুই ওর সাথে কি কথা বলছিলি
আমিঃতেমন কিছুই না।কেনো?
রুবেলঃভাবি দেখে রেগে গেছে
আমিঃআমি তো ইচ্ছা করে বলিনি।সে নিজে
থেকেই বলতে আসছিলো
রুবেলঃতুই ভাই আজ গেছিস।
আমিঃচিন্তা করিস না। ঠিক করে নিবো।
রুবেলঃহুম
আমিঃআর তুই এখানে কেনো,গোসল করবি কখন
রুবেলঃএখন করবো
আমিঃযা তাহলে
রুবেলঃহুম আর তুইও যা
আমিঃহুম
রুবেল চলে যাওয়ার পর সেখানে কিছু সময়
বসে থাকার পর রুমে চলে আসলাম।
রুমে আসতেই দেখলাম জান্নাত মাথা নিচু করে
বসে আছে।ও আবার কখন রুমে আসলো।
দেখি জিজ্ঞাস করি আগে....
আমিঃতুমি কখন আসলে
জান্নাতঃ........ (চুপ)
আমিঃআবার চুপ করে আছো কেনো,কখন আসলে
জান্নাতঃকেনো,দেরি করে আসলে কি ঐ মেয়েটার
সাথে আরো বেশি কথা বলতে পাড়তে?
আমিঃকিসব যাতা বলছো
জান্নাতঃআমি তো যাতাই বলবো কিন্তু যখন ঐ
মেয়েটার সাথে কথা বলছিলি তখন খুব ভালো
লাগছিলো তাই না
আমিঃদেখো জান্নাত এসব শুনতে কিন্তু আমার
একদম ভালো লাগছে না
জান্নাতঃআমার কথা তো ভালো লাগবেই না।
এখন অন্য কাউকে পেয়েছো তার সাথেই কথা
বলতে ভালো লাগে
আমিঃঠাসসসস
জান্নাতঃ....(থাপ্পড় খেয়ে গালে হাত দিলো)
আমিঃআমাকে কি মনে করো তুমি?আমি ঐ
মেয়েটার সাথে উপর দিয়ে কথা বলতে গেছিলাম?
জান্নাতঃ....(চুপ করে আছে)
আমিঃযখন তুমি আরুহির কাছে ছিলে তখন
আমি একা একা সেখানে বসে ছিলাম।কিন্তু
হঠাৎ ঐ মেয়েটা এসে পরিচয় নিলো।আর যদি
বিশ্বাস না হয় তাহলে ঐ মেয়েটার থেকেই জিজ্ঞাস
করো আমি তার সাথে কি এতো প্রেমের কথা
বলেছি।
কথাগুলো বলার পর দেখলাম জান্নাতের চোখে
জল।কি করবো কথায় কথায় সন্দেহ করা একদম
আমার পছন্দ হয়না।বাসায় এরকম করে কিছু
বলিনা।কিন্তু তাই বলে বিয়ে বাসায় এসেও এমন
করবে...!
কিছু সময় চুপ থাকার পর নিজে থেকেই বললাম।
আমিঃযাও রেডি হয়ে নাও
জান্নাতঃআমি বাসায় যাবো
আমিঃমানে?
জান্নাতঃমানে আমি এখানে আর থাকবো না
আমিঃদেখো বাবু প্লিজ এমন পাগলামো করো না
জান্নাতঃআমি বাসায় যাবো মানে বাসায় যাবো
আমিঃএই না, আমি সরি। এই দেখো কান ধরছি
আর কখনো তোমাকে মারবো না।তারপরেও
প্লিজ যেও না।(দুহাত দিয়ে গাল ধরে)
জান্নাতঃতুই আমাকে ছাড়বি 😡
আমিঃনা, আগে বলো থাকবে
জান্নাতঃথাকবো না
আমিঃঠিক আছে ওয়েট।
(গিয়ে দরজাটা আটকিয়ে দিলা
জান্নাতঃতুই দরজা বন্ধ করলি কেনো?
আমিঃযেনো তুমি যেতে না পারো
জান্নাতঃতুই সামনে থেকে সড়
এখন ওর ছেড়ে দিলেই চলে যাবে আমি জানি।
তাই একটা মেডিসিন দিলাম।জান্নাতের ঠোঁটের
সাথে আমার ঠোঁট জোড়াকে একত্রে করে নিলাম।
কিছু সময় পর ছেড়ে দিবো কিন্তু সেটা আর হলো
না।ছেড়ে দেয়ার আগ মুহূর্তে জান্নাত আমার
ডাকে সাড়া দিয়ে নিজে থেকেই আমার মাথার
চুল খামচে ধরে আরো গভীরতায় নিয়ে গেলো।
অনেক্ষণ পর ছেড়ে দিলো।ছেড়ে দেয়ার সাথে
সাথে আমি জোড়ে জোড়ে নিশ্বাস নিতে লাগলাম।
কিন্তু জান্নাত ছেড়ে দেয়ার পর পরই কান্না শুরু
করলো।বিছানার উপর বসে মাথা নিচু করে
কান্না করতে লাগলো।
আমিঃকি হলো কান্না করছো কেনো?
জান্নাতঃতুমি জানোনা,তোমার সাথে কোনো মেয়ে
কথা বললে আমার একদম সহ্য হয়না,তারপরেও
কেনো তুমি অন্য মেয়েদের সাথে কথা বলো
আমিঃআমি তো বলতে চাইনা।কিন্তু তোমার বরটা
অনেক কিউট তাই সব মেয়েরা কথা বলতে চাই😁
জান্নাতঃহিহিহিহি,নিজের সুনাম নিজেই করে
আমিঃসে যায় হোক,তোমাকে হাসাতে পারছি
এটাই অনেক।এখন যাও রেডি হয়ে নাও।আমি
বাইরে যাচ্ছি
জান্নাতঃসেটার দরকার নেই।বলা তো যায়না বাইরে
গিয়ে আবার অন্য মেয়েদের সাথে কথা বলবে
আমিঃতো আমি কি করবো
জান্নাতঃআমার সাথে তুমিও রেডি হবে
আমিঃকিহহহ😳😳
জান্নাতঃকি নয় জি।এখন চলো গোসল করবো
আমিঃহুম।
এসব জেনে আর আপনাদের লাভ নাই।
দুজন মিলে রেডি হয়ে বাইরে আসলাম।
---------------------------------------------
বাইরে আসার পর থেকে জান্নাত আমার হাত
ধরে আছে।কোথায় যেতে দিচ্ছে না।আমাদের
এমন দেখে অনেকে হাসা হাসি করছিলো আবার
অনেকে হিংসাও করছিলো।কারণ তাদের স্ত্রী বা
স্বামী আমাদের মতো করে চলাফেরা করছে না।
তারপর বিয়ের সব নিয়ম কানুন শেষ করে বিয়ে
পড়ানো হলো।জান্নাত আগে থেকেই জেদ ধরে
আছে বাসায় যাবে।তাই আঙ্কেল আন্টির থেকে
বিদায় নিয়ে রাতেই বাসায় চলে আসলাম।
বাসায় আসার পর ফ্রেস হয়ে নিলাম।রুমে বসে
ফোন টিপছি হঠাৎ জান্নাত বলল...
জান্নাতঃআমি সরি বাবু
আমিঃকিহ বললে...(অবাক হয়ে)
কারণ জান্নাত যে চিজ, সেই এখন আমাকে সরি
বলছে।এটা বিশ্বাস করতেও আমার কেমন জানি
কষ্ট হচ্ছে।
জান্নাতঃঅবাক হচ্ছো কেনো,ঐ মেয়েটা আমাকে
সব বলেছে তোমাদের কি কি কথা হয়েছে
আমিঃকি বলল মেয়েটা
জান্নাতঃতুমি আমাকে নিয়েই সব বলেছো এসব
আমিঃতাহলে আমার পুরষ্কার দাও
জান্নাতঃকি পুরষ্কার?
আমিঃআজ রাত
জান্নাতঃএকদম না।অনেক ক্লান্ত লাগছে
আমিঃএতো কিছু জানিনা।দিতেই হবে
জান্নাতঃনা
আমিঃওকে যাও লাগবে না(অভিমান করে)
জান্নাতঃহয়েছে আর ঢং করা লাগবে না।
আমিঃহাহাহাহাহা
তারপর যা হবার তাই হলো।দুজনেই চলে গেলাম
অজানা ভালোবাসার ডুব সাগরে।
----------------------------------------------------
২ বছর পর......
কিছুদিন আগেই জানতে পেরেছি জান্নাত আমাদের
সন্তানের মা হতে চলেছে।জান্নাতের গর্ভে ৩মাসের
বাচ্চা আসতে আসতে বড় হচ্ছে।যেদিন জান্নাত
আমাকে এই খুশির খবর দিয়েছিলো সেদিন
থেকেই জান্নাতের উপর আলাদাভাবে যত্ন নেয়া
শুরু করছি।আগের মতো আর কাজ করতে
দেয়না।বাসায় একটা কাজের বুয়া রাখতে
চেয়েছিলাম কিন্তু সেটা হয়নি।তিনজন খাবার
টেবিলে আছি তখন বললাম.....
আমিঃআমি চাইছি বাসায় একটা কাজের লোক
আনতে।তোমরা কি বলো
অবন্তীঃসেটার দরকার নেই
আমিঃকেনো?
অবন্তীঃএতোদিন ভাবি সব করেছে। কিন্তু এখন
থেকে আমি করবো।
আমিঃকিন্তু তোর কলেজ?
অবন্তীঃসেটা আমি দেখবো
আমিঃলাগবে না।আমি কাজের জন্য লোক আনছি
জান্নাতঃতুমি এতো কথা বলো কেনো?আমি
আর অবন্তী মিলে করতে পাড়বো
আমিঃযদি সমস্যা হয়?
অবন্তীঃভাইয়া হবে না।আর তাছাড়া আমি তো
আগের বাসায় কাজের লোকের মতোই জীবন
যাপন করেছি।তাই আমি পারবো
জান্নাতঃঠাসসস(কষে একটা থাপ্পড় মারলো)
অবন্তীঃ....(গালে হাত দিয়ে চুপ করে আছে)
অবশ্য জান্নাত না মারলেও আমিই মারতাম।
জান্নাতঃতোকে বলছিনা আগের বাসার কথা
কখনো মনেও আনবি না।আর আজ তুই সেটা
আমাদের সামনে প্রকাশ করছিস।আমরা তো
তোর কেউ না।কেনো আমাদের কথা শুনবি?
অবন্তীঃসরি ভাবি
জান্নাতঃআমি কারো ভাবি না
অবন্তীঃদেখো ভাবি গালটা কিন্তু ব্যথা করছে।তাই
আমাকে আর রাগাবে না বলে দিলাম
জান্নাতঃকেনো এমন কথা বলিস(অবন্তীকে জড়িয়ে নিয়ে)
অবন্তীঃসরি বললাম তো।আর কখনো বলবো না
এই কান ধরে বলছি
জান্নাতঃমনে থাকবে তো
অবন্তীঃপাক্কা মনে থাকবে।
আমিঃএখন খেয়ে নে।ঘুরতে যাবো
অবন্তীঃতোমরা ঘুরে আসো
জান্নাতঃতুই আবার কথা বলছিস
অবন্তীঃহিহিহিহি আর বলবো না।
খাবার শেষ করে রুমে এসে রেডি হতে লাগলাম।
-------------------------------------------
রেডি হওয়ার পর তিনজন বাইরে এসে গাড়িতে
উঠলাম।আমি সামনে আর ওরা দুজন পিছনে।
মনে হচ্ছে আমি ড্রাইভার 😒।
জান্নাতঃআমরা যাচ্ছি কোথায়?
আমিঃতোমরা সিদ্ধান্ত নাও
অবন্তীঃভাবি,চলো নির্জন কোথাও যায়
জান্নাতঃনা,সেখানে গেলে মজা হবে না
অবন্তীঃতাহলে কোথায় যাওয়া যায়
আমিঃসামনের একটা পার্ক আছে
জান্নাতঃকতো সময় লাগবে?
আমিঃআর ৩০মিনিট সময় লাগবে
অবন্তীঃতাহলে যাওয়া যায় কি বলো ভাবি?
জান্নাতঃহুম চলো।
পিছনদিক থেকে তারা ইচ্ছা মতো গল্প করতে
লাগলো আর আমি ড্রাইভ করতে লাগলাম।
কিছুসময় পর পার্কে চলে আসলাম।
গাড়িটা এক পাশে পার্ক করে তিনজন নামলাম।
অবন্তীঃভাইয়া তোমরা ওদিকটাই যাও আর আমি
এদিকটাই যায়
জান্নাতঃতুই ওদিকে যাবি কেনো
অবন্তীঃআরে তোমাদের মাঝে থেকে আমি কি
করবো শুনি?
আমিঃএমনি যাচ্ছিস নাকি বয়ফ্রেন্ড আসছে
অবন্তীঃভাইয়ায়ায়া,আর ভাবি তুমি ভাইয়াকে
কিছু বলছো না কেনো?
আমিঃও কি বলবে।আর করলে আমাকে বলতে
পারিস সমস্যা নেই
জান্নাতঃছি:নিজের বোনকে এসব বলতে তোমার
লজ্জা লাগে না
আমিঃলজ্জা লাগবে কেনো?
জান্নাতঃঅবন্তী,ও যেটা বলল একদম শুনবে না।
বিয়ের পর স্বামীর সাথে প্রেম করবে।
অবন্তীঃঠিক আছে।এখন তোমরা যাও
আমিঃসমস্যা হলে কল দিবি
অবন্তীঃআচ্ছা
বলেই অবন্তী পিছন দিকে হাটা ধরলো।আমরাও
দাঁড়িয়ে না থেকে অন্যদিকে হাটতে লাগলাম।
জান্নাতঃঅবন্তী যদি সত্যি কারো সাথে রিলেশনে
জড়াই তাহলে কি হবে
আমিঃকি হবে,কিছুই হবে না
জান্নাতঃযদি রিতার মতো হয়?
আমিঃতুমি সেসব চিন্তা করো না।অবন্তী এমন
কাজ করবে বলে মনে হয়না
জান্নাতঃতাই যেনো হয়
আমিঃহুম চলো ওদিকটাই যায়
জান্নাতঃহুম চলো
অবন্তীর কাহিনী.........
ফোনে একটা গান দিয়ে পার্কের সুন্দর সুন্দর
জায়গা ঘুরে দেখছে আর যেটা বেশি ভালো
লাগছে সেটাকে ক্যামেরাই অবদ্ধ করছে।
কিছু সময় একাকী হাটার পর হঠাৎ থেমে গেলো।
সুন্দর একটা বাচ্চা মেয়ে পার্কে একা কি করছে।
আর কেনোই বা কান্না করছে।
অবন্তী সেখানে আর দাঁড়িয়ে না থেকে মেয়েটার
কাছে গেলো।দেখে মনে হচ্ছে ৪ কিংবা ৫ বছর
বয়স হবে।অবন্তী মেয়েটার পাশে বসলো.....
অবন্তীঃবাবু তোমার নাম কি?
পিচ্চিঃ........(চুপ করে কান্না করছে)
অবন্তীঃতোমার আব্বু আম্মু কোথায়?
পিচ্চিঃ....(অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলো)
অবন্তীঃকি হলো কিছু বলছো না কেনো?
পিচ্চিঃআমার মাম্মাম আর পাপাকে খুঁজে পাচ্ছি না
অবন্তীঃতার কোথায়?
পিচ্চিঃজানিনা....(কান্না করতে লাগলো আবার)
অবন্তীঃআচ্ছা আমি কি তোমার ফ্রেন্ড হতে পারি?
পিচ্চিঃনা
অবন্তীঃকেনো?
পিচ্চিঃমাম্মাম বলে দিছে অপরিচিত কাউকে
ফ্রেন্ড না বানাতে
অবন্তীঃতাহলে পরিচিত হয়।আমি অবন্তী আর তুমি
পিচ্চিঃআমি আভা
অবন্তীঃখুব সুন্দর নাম।তুমি এখানে কেনো?
পিচ্চিঃঘুরতে আসছিলাম কিন্তু হঠাৎ করে আমি
পাপা আর মাম্মামকে হারিয়ে ফেলি
অবন্তীঃকখন এসেছো তুমি?
আভাঃঅনেক সময়
অবন্তী পিচ্চি মেয়েটার সাথে কথা বলছে কিন্তু
তার পাপা মাম্মামের কোনো খোজ নেই।আর
পিচ্চিটার মধ্যেও কেমন একটা মায়া আছে।প্রায়
সন্ধ্যা হতে চলল কিন্তু কেউ খুঁজতে আসছে না।
কিছু সময় বসে থাকার পর অবন্তী আমাকে কল
দিয়ে ওর দিকে যেতে বলল।তাই আমি আর জান্নাত
ওর কাছে গিয়ে বললাম......
আমিঃকিরে কি হয়েছে আর বাচ্চাটা কে
অবন্তীঃহারিয়ে গেছে ভাইয়া।এখানে বসে বসে
কান্না করছিলো।
জান্নাতঃমামনি তোমার নাম কি
আভাঃআভা
আমিঃতোমার বাসা কোথায়?
আভাঃজানিনা
এটাই স্বাভাবিক। এতো পিচ্চি মেয়ে কিছু না
বলতে পারাটাই স্বাভাবিক।
আমিঃএখানে কি কোথায় রেখে যাবো?
জান্নাতঃকোথায়?
আমিঃপার্কের গার্ডদের কাছে
জান্নাতঃসেটার দরকার নেই।কারণ পরবর্তীতে
মেয়েটার পরিবারের থেকে বিশাল অংকের টাকা
হাতিয়ে নিতে পারে
আমিঃতাহলে কি করবে
জান্নাতঃবাসায় নিয়ে যায়
আমিঃবাসায়?
তিনজন কিছু সময় পরামর্শ করার পর মেয়েটাকে
বাসা নিয়ে আসলাম।
বাসায় আসার পর সবাই মিলে ভিতরে ডুকতেই
মেয়েটা যা করে উঠলো।সেটা দেখে চোখ দিয়ে
নোনাজল গড়িয়ে পরলো.।।।।
চলবে...................
লাইক কমেন্ট কম হচ্ছে এজন্য বাকি পর্বগুলো দেয়ার উৎসাহ পাচ্ছি না।
Apurba roy
Thursday, August 27, 2020